Skip to main content

All about Google Earth !

 পুরো পৃথিবীটা যখন হাতের মুঠোয়.....

"মাঝে মাঝে আমি নিজের খেয়ালে হারিয়ে যাই এক অজানা দেশে,

হারিয়ে যাব শতকোটির আলোকবর্ষ দূরে!"

হারিয়ে যেতে চান, তাহলে চলুন দেখি হারিয়ে যেতে চাইলে কি করবো ।

Google Earth Homepage

একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে গুগল ম্যাপ হলো পৃথিবীতে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার জায়গা । আর গুগল আর্থ হল এই বিরাট পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার জায়গা । এই গুগল আর্থ ই আপনাকে সাহায্য করবে অজানার ডুব দিতে ।

আমরা সবাই কমবেশি গুগল আর্থ(Google Earth) ব্যবহার করেছি । হতে পারে সেটা কম্পিউটারে ওয়েবসাইটে কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর মাধ্যমে । কখনো কি ভেবে দেখেছি গুগল আর্থে পৃথিবী দেখতে যেরকম বাস্তবে পৃথিবীতে সেরকমই দেখা যায় ?

উত্তরটা হলো "না' । বাস্তবের পৃথিবীতে একেক স্থানে একেক ঋতু বিদ্যমান থাকলেও গুগল আর্থে বিদ্যমান পৃথিবীতে পুরো জায়গা জুড়ে বসন্তকাল । সেজন্য বাস্তবের পৃথিবী তে অনেক মেঘ দেখা যায় কিন্তু গুগল আর্থে কোন মেঘ দেখা যায় না , সম্পূর্ণ পরিষ্কার । যেহেতু তারা বিমান চালিয়ে থ্রিডি ইমেজ সংগ্রহ করে তাই তাদের প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ । এজন্যই গুগল ম্যাপসে বা আর্থে পৃথিবীর সমস্ত জায়গাতেই বসন্তকাল ।

গুগল আর্থে বিশ্বের ৯৭% জায়গা এবং ১০ লক্ষ মাইল রাস্তার স্ট্রিট ভিউ ইমেজ আছে। এটা এখন অ্যান্ড্রয়েড, আইওস এর জন্য সফটওয়্যার আর ওয়েব ভার্সন হিসেবে সব ডিভাইসেই সাপোর্টেড ।

গুগল আর্থ এর জন্ম একদিনে হয় নি, জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ যেভাবে সৃষ্টি হয়েছিল , কফিশপে বসে জাভার ধারণা পাওয়া , এমনটা না । সেই নব্বই দশকে এর প্রযুক্তি নিয়ে প্রথম ধারণা‌ পাওয়া যায়, ইন্ট্রিনসিক গ্রাফিকস নামের একটি 3D সফটওয়্যার কোম্পানি যখন একটি গ্লোব তৈরি করলো যা জুম ইন এবং জুম আউট করা যেতো , এটা শুধুই একটা ডেমো ছিল কিন্তু আর্থ আবিষ্কার এর দুয়ার উন্মোচন হয় । এই গ্লোব সফটওয়্যার জনপ্রিয়তা অর্জন করলো , কিন্তু তারা গেমিং ফোকাসড‌ কোম্পানি হওয়ায় এই বিশেষ সফটওয়্যার টি বাজারজাত করতে Keyhole Inc. নামে কোম্পানি দাড় করিয়ে ফেললো সেই ১৯৯৯এ । এই সফটওয়্যার যা বার্ষিক একটি পেমেন্ট সাবস্ক্রিপশন এর মাধ্যমে ম্যাপের ডাটা প্রোভাইড করতো , অ্যাপ্লিকেশনটির তখনকার নাম "Keyhole EarthViewer" . কিন্তু কোম্পানিটি আর্থিক সমস্যায় পড়ে । একসময় বেইজ কোম্পানি ইন্ট্রিনসিক গ্রাফিকস বিক্রি হয়ে যায়, আর এই কোম্পানির প্রধান কিছু গ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার এই keyhole সফটওয়্যার কে ডেভেলপ করতে থাকে।
ভাগ্য খুলে যায় সেই ২০০৪ এ, যখন গুগল Keyhole Inc. কে কিনে নেয় ।

গুগল ম্যাপস এ আমরা 2D ইমেজ দেখতে পাই , যেগুলো সাধারণত জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত । প্রায় ৭ লক্ষ ইমেজ ব্যবহার করে গুগল আর্থে গ্লোবাল ভিউ তৈরি করা হয় ।গুগল আর্থে পৃথিবীর যে ছবি দেখা যায় তা প্রায় 800 বিলিয়ন পিক্সেল ।

কিন্তু গুগল আর্থে যে থ্রিডি ইমেজ দেখি আমরা , মানে যে কোন শহর কিংবা অবকাঠামোর 3D View এটা কি করে করা হয় জানেন ?

3D View

গুগল আর্থে কিংবা ম্যাপসে থ্রিডি ইমেজ দিতে সচরাচর বিভিন্ন প্লেন চালানো হয় যাতে পাঁচটি করে ক্যামেরা  থাকে ‌ । এসব ক্যামেরার মধ্যে ডেপ্থ ক্যামেরাও থাকে । বিমান গুলো হতে পারে গুগলের নিজস্ব কিংবা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিমান । তারপর ক্যামেরার ডাটাগুলো এনালাইসিস করে গুগল আর্থে কিংবা গুগল ম্যাপ সার্ভারে প্রেরণ করা হয় । এখানে অবশ্য আরো কিছু কাজ করা হয় যেমন মেঘ,  কুয়াশা ইত্যাদি বাদ দেওয়া হয় । কালার কারেকশন এর কাজও করা হয় । কিছু শহরের ক্ষেত্রে রাস্তার গাড়ি গুলো মুছে ফেলা হয় । Depth mapping করে অনেকটা vivid বা প্রাণবন্ত ইমেজে রূপ দেওয়া হয় । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে থ্রিডি ইমেজ এর জন্য প্রায় 10 মিলিয়ন বা 10000000 ছবি তোলা হয়েছিল । একটা কম্পিউটার পুরো বিষয়টাকে প্রসেস করতে গেলে 60 বছর লেগে যাবে ।

সর্বশেষ আপডেট এ আপনি এখন সমুদ্রের তলদেশেও ভ্রমণ করতে পারবেন । নির্দিষ্ট কিছু সামুদ্রিক এলাকার জন্য এই ফিচারটি এভেইলেবল , এমনকি মঙ্গলগ্রহ বা চাঁদেও এক্সপ্লোর করতে করতে হারিয়ে যান, বাঁধা নেই। আর VR মোড, এটাও বাদ দিয়ে যাচ্ছি না । আর্থ কিন্তু এখন VR সাপোর্টেড । একটি VR হেডসেট লাগিয়ে বাস্তবেই কল্পনালোককে আরো সুন্দরভাবে উপভোগ করুন। আরো আছে Flight Simulator, যেটায় আপনি হয়ে যেতে পারবেন একজন দক্ষ পাইলট আর পুরো দুনিয়া "ফ্রি"-তেই ভ্রমণ করতে পারবেন।

তবে বাংলাদেশে ভারতের মতো দেশগুলোতে গুগলের নিজস্ব বিমান চালিয়ে থ্রিডি ইমেজ দেওয়া হয় না । ভবিষ্যতে আমরা আশা করতে পারি যে চন্দ্র নাথ পাহাড় বা আরো জনপ্রিয় স্থান গুলি থ্রিডি ভাবে দেখতে পারবো ।

এতকিছুর পরও , এই গুগল আর্থ এর কন্ট্রোভার্সি আছে । কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধীগোষ্ঠির দরুণ, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে । গোপনীয় কিছু জায়গার হাই-রেজ্যুলেশন ছবির সহজলভ্যতার জন্য গুগল আর্থ কেই দায়ী করা হয় । কিছু জনগোষ্ঠী সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে পর্যাপ্ত ভূতাত্ত্বিক তথ্য তাদের হাতের নাগালে চলে আসায় ।

মানতেই হবে আপনার হাতের তালুতে আপনি পুরো পৃথিবী নিয়ে আছেন, চোখের পলকে সিডনি থেকে আইফেল টাওয়ার দেখার ব্যাপারটা মিরাকল নাহ্?

Various Sources






Comments

Popular posts from this blog

কাঁদলে হালকা অনুভুত হয় কেন?

চিত্রঃ শিশুর স্বাভাবিক কান্না কান্নায় যেন এক অন্যরকম সুখ আছে, তাই তো আমি কাঁদতে এত ভালোবাসি। মানবজীবনে সুখ-দুঃখ যেন এপিঠ ওপিঠ। কখনো সুখ-শান্তি আসে আর কখনো বা হতাশা-শোক-দুঃখ আমাদের জর্জরিত করে ! এই হতাশা কিংবা দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কান্নার মাধ্যমে। তো এত চোঁখের জল ফেলেই কি লাভ ? কান্না একটি জটিল ও অদ্বিতীয় মানবিক আচরণ, যার শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটি আমাদের চাপ মোকাবেলা করতে, আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করে ।  কিছু প্রখ্যাত গবেষকদের মতে, কান্নার ফলে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোন দুইটি আমাদের কে প্রশান্তি এনে দিতে সাহায্য করে এবং ব্যথা উপশম করে, আমাদের মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন ও টক্সিক উপাদানকে দেহ থেকে বের করে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজ তৈরি করে। সাথে সাথে শারীরিকভাবেও সুস্থ রাখে।  তবে সব কান্নাই উপকারী নয়, কখনো কখনো কান্না বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডার এর মত জটিল মানসিক রোগের উপসর্গ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই যে কেউ কাঁদতে পারে, তাই তখন পেশাদার সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ...

পৃথিবীতে কোনো অনুজীব না থাকলে মানুষের পুষ্টি ও বিপাক প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিতো কি?

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, যদি পৃথিবীতে কোন অণুজীব না থাকতো, সবই যদি দৃশ্যমান হতো তাহলে কেমন হতো? আদৌ কি আমাদের মানবজাতির অস্তিত্ব থাকতো ? চিত্রঃ অনুজীব চিত্রঃ পাচনতন্ত্রে অণুজীবের ভূমিকা শুধু এটাই ভেবে দেখুন, মানুষের পুষ্টি ও বিপাক ক্রিয়ায় কোন সমস্যা হতো কিনা ! উত্তর হলো, হ্যাঁ । মানুষের বিপাক ক্রিয়ায় কোটি কোটি অণুজীব ভূমিকা রাখে । একই সাথে তারা ভূমিকা পালন করে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় । আমরা যে খাবার খাই তার পরিপাক মুখের গহ্বর থেকে শুরু করে পাকস্থলী ও অন্ত্র পর্যন্ত চলে । বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, আবারো বলছি , "উপকারী" ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকে খাবার পরিপাক ও তা থেকে পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য । তাদের কেউ শর্করা, কেউবা আমিষ এবং কেউ কেউ স্নেহ জাতীয় খাবার পরিপাকে নিয়োজিত । খাবারের কণাকে ভেঙে তা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে তা সরাসরি রক্তে পৌঁছে দেয় এই উপকারী অনুজীব সমূহ , রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে সারা দেহে উক্ত পুষ্টি উপাদান সমূহ পৌঁছে যায় দেহের প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যমান কোষসমূহে । অতঃপর কোষের বিকাশ সাধন হয় এবং সর্বোপরি আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং উন্নতি সাধন হয় । অনুজীব এর অস্...