Skip to main content

2nd part of Offline Week: The Internet BlackOut Moments

 September 1, 2024

 ·

Shared with Public

2nd part of Offline Week: the Internet BlackOut Moments 

22nd July 2024 Monday 

7:15 AM

কেমন ছিল আমার অফলাইনের দিনগুলো? 

এই ক'টা দিনে আমি যেন অতীতে ফিরে গিয়েছি, কারফিউ এর সময় বাসায় পত্রিকা আসে নি, বাসায় টিভিও নষ্ট। তখন শখের বশে দাদুর সেই হাল আমলের রেডিও টায় খবর শুনতাম। খুব টেনশন এও ছিলাম যে কি হচ্ছে না হচ্ছে, মিডিয়া তো সম্পুর্ণ রূপে নিয়ন্ত্রিত, এরা Credibility Crisis এ ভুগছে, মানে আজকাল বেশিরভাগ মানুষ খবরে দেখানো লেবু/মুগডাল এর বাম্পার ফলন খায় না, তারা আসল খবর টা জানতে চায়, এবং ফেইসবুক এর মতো একটা মুক্ত মিডিয়ার সুবাদে আমরা তা জানতে পারি। 

এখন ভোরবেলা‌ গুলো অন্যরকম। প্রতিদিন ভোরবেলায় আমি একটা নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাই, আবার দুশ্চিন্তাও নেমে আসে। 50-50। আঁচ করা যাচ্ছে না, ভাবার জন্য যে রিসোর্স দরকার তাও নেই। ভাবনা সীমিত। মোবাইলের চার্জ ফুরোয় না, দিনে একবার ফুল চার্জ দিয়ে ফেলে রাখি সারাদিন। 

ফি*লি*স্তি*ন এর নাম শুনেছেন? আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর অ*স্ত্রের আঘাতে, সামান্য ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এ কি অবস্থা হয়েছে আমাদের, আর আমাদের ভাইয়েরা মধ্য*প্রাচ্যে মাত্র কয়েকশো বর্গকিলোমিটার জায়গায় শতো শতো বো*মার আঘাত কীভাবে সহ্য করে আছে ভাবা যায়? আমাদের বাংলাদেশ এর শহরগুলোতে গো*য়েন্দা/পু*লিশ এসে নাকি ছাত্রদের ধ'*রে নিয়ে যাচ্ছে। Almost same consequences happening in both places. কিছুটা অনুভব করা যায়। তারা এত দীর্ঘ সময় ধরে টিকে আছে আর আমরা যেন কদিনেই নাজেহাল হয়ে গেছি। 

চারপাশের পরিবেশটা মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে আরো সবুজ হয়ে উঠেছে , অনুভব হচ্ছে "Life is free", এর বাক্যটা আমার মাথায় অনেকবার এসেছে , কারণ সোশ্যাল মিডিয়া আর স্মার্টফোন এর বন্দী খাঁচা থেকে আমরা বের হতে পেরেছি, এ যেন এক স্বাধীনতার অনুভূতি! ভার্চুয়াল জগত থেকে একটা লম্বা ব্রেক নিতে পারাটা সৌভাগ্যের। 

পুরো সময়টা জুড়ে মনে হয়েছে ২০১০-১২ এর দিকে আছি(এই কয়েকবছর লাইফের Best moments ছিল, Nostalgic Feelings) , বারবার মনে হচ্ছিল আমি আমার অতীতে ফেরত এসেছি, যখন Internet এর সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না আমার, তখন যেমনটা লাগতো এখনো তেমনটাই লাগছে। 

আমি বই পড়েছি, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের লেকচার শুনেছি ও  তাদের লম্বা কিছু রেকর্ডেড Session করার ও সুযোগ হয়েছে(আগেই Downloaded ছিল), লেখালিখি করেছি টুকটাক, ইতিপূর্বে আমি লিখতে পারলেও সময় দিতে পারতাম না ( Because of time wastage in many useless things and more) , এই কিছু সময়, বেশ ভালো লেখা চর্চাই করা গেছে অন্তত। এর বাইরে আরো কিছু প্রোডাক্টিভ কাজে সময়টাকে ব্যায় করা গেছে...

ঘুরতে যেতাম, লম্বা একটা সময় বাসার বাইরে পুরোনো বন্ধুদের সাথে কাটানো হতো।‌ আর বাইক চালিয়ে দূর থেকে দূরে যেতাম। 

এর বাইরে ধর্মীয় কাজকর্ম ও ইবাদতে মন এসেছিল, Mindfulness টা এই বন্ধের সময়টাতে আমার একটা এচিভমেন্ট, এর অর্থ 'মনোযোগ'। ইবাদতের দ্বারা আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, কারণ আমরা এক রবের কাছে নিজেকে সঁপে দেই । অন্য সময় নামাজ সহ অন্যান্য ইবাদাতের সময় মাথায় বিভিন্ন বিষয় আসতো, যেমন অমুক কি পোস্ট করলো ফেইসবুকে, তমুক কি মেসেজ দিল কি-না এই সব। কিন্তু এখন তো ইন্টারনেট নেই, তো ঐসবে মন নেই। তাই ইবাদাতে আলাদা একটা মজা পাওয়া যায়। 

আমার একটা সমস্যা হলো Overthink করা, হ্যা‌ ভাবতে পারার সক্ষমতা থাকা ভালো তবে বেশি কোনোকিছুই ভালো নয়। অনলাইনে থাকলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হুটহাট Google করতাম, ইভেন যেটার প্রয়োজন নেই। আর সেটা নিয়ে আকাশ কুসুম চিন্তা! যেমন Tech and Gadget নিয়ে আমার প্যাশন আছে, তো আমি এটা নিয়েই অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করি, যখন যেটা মাথায় আসে , আর ভাবতে থাকি, Marquis BrownLee বা Mrwhosetheboss, Linus Tech tips বা ATC, Samzone, PC Builders Bangladesh এই চ‌্যানেলগুলোর কনটেন্ট নিয়মিত দেখা ছাড়া তো আমার খাবারই হজম হয় না। এই আকাশ কুসুম চিন্তা থেকে বের হওয়ার জন্য অফলাইন এ যাওয়ার বিকল্প নেই।

অনলাইনে থাকা সময়গুলোতে ঘুমাতে দেরি হতো, কারণ একটাই , সীমাহীন বিনোদন এর জন্য আমরা ঘুমটাকেও বিসর্জন দিয়ে দিতাম । 

এখন অফলাইনে থাকার সুবাদে ঘুম ভালো হচ্ছে, Sleeping Cycle টাও স্বাভাবিক হয়েছে ।

Harmony inside the body, mind and soul. তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এর জন্য অস্বস্তি লাগে। এমন সিচুয়েশন দেখার জন্য কখনো প্রস্তূত ছিলাম না, যারা ফ্রন্টলাইনে আছেন তারাও হয়তো প্রস্তুত না, কিন্তু সবাই এক নতুন বাংলাদেশ এর স্বপ্ন দেখে। আমিও দেখি..


Comments

Popular posts from this blog

কাঁদলে হালকা অনুভুত হয় কেন?

চিত্রঃ শিশুর স্বাভাবিক কান্না কান্নায় যেন এক অন্যরকম সুখ আছে, তাই তো আমি কাঁদতে এত ভালোবাসি। মানবজীবনে সুখ-দুঃখ যেন এপিঠ ওপিঠ। কখনো সুখ-শান্তি আসে আর কখনো বা হতাশা-শোক-দুঃখ আমাদের জর্জরিত করে ! এই হতাশা কিংবা দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কান্নার মাধ্যমে। তো এত চোঁখের জল ফেলেই কি লাভ ? কান্না একটি জটিল ও অদ্বিতীয় মানবিক আচরণ, যার শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটি আমাদের চাপ মোকাবেলা করতে, আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করে ।  কিছু প্রখ্যাত গবেষকদের মতে, কান্নার ফলে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোন দুইটি আমাদের কে প্রশান্তি এনে দিতে সাহায্য করে এবং ব্যথা উপশম করে, আমাদের মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন ও টক্সিক উপাদানকে দেহ থেকে বের করে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজ তৈরি করে। সাথে সাথে শারীরিকভাবেও সুস্থ রাখে।  তবে সব কান্নাই উপকারী নয়, কখনো কখনো কান্না বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডার এর মত জটিল মানসিক রোগের উপসর্গ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই যে কেউ কাঁদতে পারে, তাই তখন পেশাদার সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ...

পৃথিবীতে কোনো অনুজীব না থাকলে মানুষের পুষ্টি ও বিপাক প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিতো কি?

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, যদি পৃথিবীতে কোন অণুজীব না থাকতো, সবই যদি দৃশ্যমান হতো তাহলে কেমন হতো? আদৌ কি আমাদের মানবজাতির অস্তিত্ব থাকতো ? চিত্রঃ অনুজীব চিত্রঃ পাচনতন্ত্রে অণুজীবের ভূমিকা শুধু এটাই ভেবে দেখুন, মানুষের পুষ্টি ও বিপাক ক্রিয়ায় কোন সমস্যা হতো কিনা ! উত্তর হলো, হ্যাঁ । মানুষের বিপাক ক্রিয়ায় কোটি কোটি অণুজীব ভূমিকা রাখে । একই সাথে তারা ভূমিকা পালন করে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় । আমরা যে খাবার খাই তার পরিপাক মুখের গহ্বর থেকে শুরু করে পাকস্থলী ও অন্ত্র পর্যন্ত চলে । বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, আবারো বলছি , "উপকারী" ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকে খাবার পরিপাক ও তা থেকে পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য । তাদের কেউ শর্করা, কেউবা আমিষ এবং কেউ কেউ স্নেহ জাতীয় খাবার পরিপাকে নিয়োজিত । খাবারের কণাকে ভেঙে তা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে তা সরাসরি রক্তে পৌঁছে দেয় এই উপকারী অনুজীব সমূহ , রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে সারা দেহে উক্ত পুষ্টি উপাদান সমূহ পৌঁছে যায় দেহের প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যমান কোষসমূহে । অতঃপর কোষের বিকাশ সাধন হয় এবং সর্বোপরি আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং উন্নতি সাধন হয় । অনুজীব এর অস্...

All about Google Earth !

  পুরো পৃথিবীটা যখন হাতের মুঠোয়..... "মাঝে মাঝে আমি নিজের খেয়ালে হারিয়ে যাই এক অজানা দেশে, হারিয়ে যাব শতকোটির আলোকবর্ষ দূরে!" হারিয়ে যেতে চান, তাহলে চলুন দেখি হারিয়ে যেতে চাইলে কি করবো । Google Earth Homepage একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে গুগল ম্যাপ হলো পৃথিবীতে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার জায়গা । আর গুগল আর্থ হল এই বিরাট পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার জায়গা । এই গুগল আর্থ ই আপনাকে সাহায্য করবে অজানার ডুব দিতে । আমরা সবাই কমবেশি গুগল আর্থ(Google Earth) ব্যবহার করেছি । হতে পারে সেটা কম্পিউটারে ওয়েবসাইটে কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর মাধ্যমে । কখনো কি ভেবে দেখেছি গুগল আর্থে পৃথিবী দেখতে যেরকম বাস্তবে পৃথিবীতে সেরকমই দেখা যায় ? উত্তরটা হলো "না' । বাস্তবের পৃথিবীতে একেক স্থানে একেক ঋতু বিদ্যমান থাকলেও গুগল আর্থে বিদ্যমান পৃথিবীতে পুরো জায়গা জুড়ে বসন্তকাল । সেজন্য বাস্তবের পৃথিবী তে অনেক মেঘ দেখা যায় কিন্তু গুগল আর্থে কোন মেঘ দেখা যায় না , সম্পূর্ণ পরিষ্কার । যেহেতু তারা বিমান চালিয়ে থ্রিডি ইমেজ সংগ্রহ করে তাই তাদের প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ । এজন্যই গুগল ম্যাপসে বা...