Skip to main content

অলস মগজের ভাবনা

 June 18, 2025

 ·

Shared with Public

কথাগুলি কিছু নির্দিষ্ট মানুষকে উদ্দেশ্য করে , যাদের কেউ কেউ আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছেন, হয়তো পুরোটা পড়বেন !  

ক্যাম্পাসে আড়াই বছর থাকার সুবাদে, এক শ্রেণীর মানুষের সাথে আমার পরিচয় হতে থাকে এবং এখনো হচ্ছে, যাদের প্রাথমিকভাবে  খুবই সাধারণ, রক্তে-মাংসে গড়া আমার-আপনার মত মানুষ বলে মনে হয় । কিন্তু তারা অতি-সাধারণ বা অসাধারণ ( দুঃখিত আমি বাংলা ব্যাকরণে অপরিপক্ক অথবা এই শ্রেণীর মানুষকে বিশেষণে বিশেষায়িত করার যোগ্যতা আমার নেই ), যেটা সব সময় আপনার দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে। এই এক শ্রেণীর মানুষ, ‌ ভাগ্য সবসময় যাদের অনুকূলে থাকে না, কার্যত কোন পরিস্থিতিই যেন তাদের স্বপক্ষে যায় না ! অভাগা-অভাগী বললে তাই ভুল হবে না। 

কিন্তু একটা কথা জানেন কি, এরা অসম্ভব চ্যালেঞ্জ নিতে পারে, আর ভীষণ জেদি টাইপের হয়। কোন হতাশা বা ডিপ্রেশন এদের ভর করে না, চলতে ফিরতে এদের কোন মোটিভেশন দরকার হয় না। অথচ সুখ-দুঃখের একটা মাপকাঠির হিসেবে, এই মানুষগুলির সবচেয়ে বেশি ডিপ্রেশনে ভোগার কথা, পৃথিবীর সমস্ত মোটিভেশন এদেরই প্রয়োজন লাগার কথা !

এরা খুব সকালে সামান্য নাস্তা করে বা নাস্তা না করেই টিউশনে যাবে, টিউশন শেষে ক্লাস ধরে, সারাদিন ক্লাস-ল্যাব শেষে আবারো টিউশন করাতে যাবে, টিউশন শেষ করে হলে ফিরবে রাত দশটায়! এসে আবার সিটির পড়া শুরু করবে, হোমওয়ার্ক করবে। না আছে ক্লান্তি না ঘুম। বাসা থেকে কোন টাকা তো নেয় ই না , উল্টো এরা যেন একাই পরিবারের কর্মক্ষম একজন ব্যক্তি! ঈদ আসলেও বাসায় যায় না। 

একাডেমিকেও এরা দারুন রেজাল্ট করে, ক্লাস টেস্ট, প্রেজেন্টেশন, অ্যাটেনডেন্স সবকিছুতে এগিয়ে থাকে। 

আয়নার এপাশে পরিশ্রম, সাফল্য দৃষ্টিগোচর হলেও, আয়নার ওপাশে অন্ধকারে বিদ্যমান চাপা দুঃখ, অভিমান দেখার কেউ নেই, বা কেউ দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না, দেখতে চাইলেও তারা দেখাবে না। আপন মনে যুদ্ধ করে যাবে, নীরবে সবকিছু সয়ে যাবে!

এই মানুষগুলোই ক্যাম্পাসে কখনো কখনো অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হয়।  ক্যাম্পাসে এদের প্রিয়জন নেহায়েত কম, তথাকথিত ছেলে বন্ধু বা মেয়ে বন্ধু দূরে থাক!

কোন সুযোগ পেলে এদের সাথে বসুন, দু-দণ্ড গল্প করুন, এদের সাথে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করুন, এদের পাশে দাঁড়ান! তাতে আপনার লাভ বৈ ক্ষতি হবে না!

এই শ্রেণীর মানুষদের আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের জীবনে দ্রুতই সৌভাগ্য দান করেন, তাদের প্রত্যাশা গুলো পূরণ করে দেন, সকলের মাঝে সম্মানিত করেন। প্রতিটি কষ্টের বিনিময় যেন তারা ঠিকঠাকভাবে পেয়ে যায় !

(চলবে...)

~নাঈম আহমেদ সিয়াম

১৮ই জুন, ২০২৫


Comments

Popular posts from this blog

কাঁদলে হালকা অনুভুত হয় কেন?

চিত্রঃ শিশুর স্বাভাবিক কান্না কান্নায় যেন এক অন্যরকম সুখ আছে, তাই তো আমি কাঁদতে এত ভালোবাসি। মানবজীবনে সুখ-দুঃখ যেন এপিঠ ওপিঠ। কখনো সুখ-শান্তি আসে আর কখনো বা হতাশা-শোক-দুঃখ আমাদের জর্জরিত করে ! এই হতাশা কিংবা দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কান্নার মাধ্যমে। তো এত চোঁখের জল ফেলেই কি লাভ ? কান্না একটি জটিল ও অদ্বিতীয় মানবিক আচরণ, যার শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটি আমাদের চাপ মোকাবেলা করতে, আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করে ।  কিছু প্রখ্যাত গবেষকদের মতে, কান্নার ফলে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোন দুইটি আমাদের কে প্রশান্তি এনে দিতে সাহায্য করে এবং ব্যথা উপশম করে, আমাদের মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন ও টক্সিক উপাদানকে দেহ থেকে বের করে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজ তৈরি করে। সাথে সাথে শারীরিকভাবেও সুস্থ রাখে।  তবে সব কান্নাই উপকারী নয়, কখনো কখনো কান্না বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডার এর মত জটিল মানসিক রোগের উপসর্গ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই যে কেউ কাঁদতে পারে, তাই তখন পেশাদার সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ...

পৃথিবীতে কোনো অনুজীব না থাকলে মানুষের পুষ্টি ও বিপাক প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিতো কি?

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, যদি পৃথিবীতে কোন অণুজীব না থাকতো, সবই যদি দৃশ্যমান হতো তাহলে কেমন হতো? আদৌ কি আমাদের মানবজাতির অস্তিত্ব থাকতো ? চিত্রঃ অনুজীব চিত্রঃ পাচনতন্ত্রে অণুজীবের ভূমিকা শুধু এটাই ভেবে দেখুন, মানুষের পুষ্টি ও বিপাক ক্রিয়ায় কোন সমস্যা হতো কিনা ! উত্তর হলো, হ্যাঁ । মানুষের বিপাক ক্রিয়ায় কোটি কোটি অণুজীব ভূমিকা রাখে । একই সাথে তারা ভূমিকা পালন করে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় । আমরা যে খাবার খাই তার পরিপাক মুখের গহ্বর থেকে শুরু করে পাকস্থলী ও অন্ত্র পর্যন্ত চলে । বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, আবারো বলছি , "উপকারী" ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকে খাবার পরিপাক ও তা থেকে পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য । তাদের কেউ শর্করা, কেউবা আমিষ এবং কেউ কেউ স্নেহ জাতীয় খাবার পরিপাকে নিয়োজিত । খাবারের কণাকে ভেঙে তা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে তা সরাসরি রক্তে পৌঁছে দেয় এই উপকারী অনুজীব সমূহ , রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে সারা দেহে উক্ত পুষ্টি উপাদান সমূহ পৌঁছে যায় দেহের প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যমান কোষসমূহে । অতঃপর কোষের বিকাশ সাধন হয় এবং সর্বোপরি আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং উন্নতি সাধন হয় । অনুজীব এর অস্...

All about Google Earth !

  পুরো পৃথিবীটা যখন হাতের মুঠোয়..... "মাঝে মাঝে আমি নিজের খেয়ালে হারিয়ে যাই এক অজানা দেশে, হারিয়ে যাব শতকোটির আলোকবর্ষ দূরে!" হারিয়ে যেতে চান, তাহলে চলুন দেখি হারিয়ে যেতে চাইলে কি করবো । Google Earth Homepage একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে গুগল ম্যাপ হলো পৃথিবীতে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার জায়গা । আর গুগল আর্থ হল এই বিরাট পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার জায়গা । এই গুগল আর্থ ই আপনাকে সাহায্য করবে অজানার ডুব দিতে । আমরা সবাই কমবেশি গুগল আর্থ(Google Earth) ব্যবহার করেছি । হতে পারে সেটা কম্পিউটারে ওয়েবসাইটে কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর মাধ্যমে । কখনো কি ভেবে দেখেছি গুগল আর্থে পৃথিবী দেখতে যেরকম বাস্তবে পৃথিবীতে সেরকমই দেখা যায় ? উত্তরটা হলো "না' । বাস্তবের পৃথিবীতে একেক স্থানে একেক ঋতু বিদ্যমান থাকলেও গুগল আর্থে বিদ্যমান পৃথিবীতে পুরো জায়গা জুড়ে বসন্তকাল । সেজন্য বাস্তবের পৃথিবী তে অনেক মেঘ দেখা যায় কিন্তু গুগল আর্থে কোন মেঘ দেখা যায় না , সম্পূর্ণ পরিষ্কার । যেহেতু তারা বিমান চালিয়ে থ্রিডি ইমেজ সংগ্রহ করে তাই তাদের প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ । এজন্যই গুগল ম্যাপসে বা...