পর্ব-০১ঃ
সাইমন, এক কাল্পনিক চরিত্র !
সামনে তার চাকরীর পরীক্ষা । সে নিজেকে বলে, "আমি আমার নিকট সৎ থাকবো, সবসময়"। তাই সে অনেক মনোযোগী ও পরিশ্রমী, দিন দিন যেন তার চিন্তাধারা আরও উন্নত হচ্ছে। সে আরো বাস্তববাদী হয়ে উঠছে।
কোনো একদিন বইয়ে মুখ গুঁজে থাকার একসময় পর নিজেকে আবিষ্কার করে এক ভবিষ্যতে, টাইম মেশিনে না চড়েই যেন দেখতে পাচ্ছে ভবিষ্যত, বর্তমান কে ভাবনার জগতে বিমুক্ত করে, পড়ে যায় দুশ্চিন্তায় । কারণ যে ভবিষ্যতের ছক সে কষেছে, তা মোটেই ভালো নয় বরং তার জন্য দুঃখের, নাহ এমন ভবিষ্যত নিয়ে তো সে কখনো এভাবে ভেবে দেখেনি... এটা তো বাস্তব না, আবার হতেও পারে।
এরকম হাজারটা সাইমন আছে , আমরা প্রত্যেকেই এক একটা সাইমন ! যারা "ভাবনার নিকট বন্দী, ভাবনাই নিত্যসঙ্গী!"
সাইমন ৫ মিনিট পড়ে আর ২৫ মিনিট ভাবে। পোমোডোরো টেকনিক টা সে উল্টোভাবে মানতেছে, যেখানে বলা হয় "২৫ মিনিট পড়ার পর পাঁচ মিনিট বিরতি", সেখানে "৫ মিনিট পড়ে ২৫ মিনিট ভাবনা" , হাস্যকর। হা হা হা।
সাইমনের এই ভাবনা কিন্তু মহাজগত ছাপিয়ে যায় । কই গিয়ে ঠেকে সে নিজেও জানে না। Cosmic Event horizon?Hubble Sphere? নাহ আরো দূরে। তার ভাবনাগুলো অনেক শার্প, সে হাঁটতে হাঁটতে যা ভাবে তা যদি খালি লিখে রাখতে পারতো, বেস্ট সেলিং বই হতো তবে, কিন্তু ব্রেইন এর ভাবনা গুলো কে ওয়েভ থেকে টেক্সট এ কনভার্ট করে লিখার মতো ডিভাইস নাই, আবিষ্কৃত হয়নাই, কিন্তু চিন্তা তো আর থেমে নাই...
সে শতভাগ হনেস্ট থাকতে চায়, কারণ সৃষ্টিকর্তার সামনে উপস্থিত হবার ভয় আছে তার । কিন্তু মানুষ তো আর ফেরেশতা না, ভুল হয়ই। অন্তত চেষ্টা করে যে তাতেই খুশি।
কেনো সাইমন? কেনো এতো ভাবো। চিন্তা করে দেখো তো কতদূর এসেছো তুমি, ফ্লো টা ধরে রাখো, সব হবে। আচ্ছা দশ বছর আগে কী ভাবতে? তখন কি বোঝার উপায় ছিল যে আজ এতদূর আসবে? কিন্তু এই একটা "ফ্লো" বা "প্রবাহ" তোমাকে এখানে এনেছে, তাই নয় কি? তবে পরিশ্রম টা লেগেছে । তুমি কি তোমার নিজের উপর আস্থা রাখতে পারো না?
"কোনোকিছু অর্জন বা বর্জন করতে , সময় ইনভেস্ট করো। প্রচুর মুনাফা আসবে। এতো উত্তেজিত বা নিরাশ হওয়া সমাধান নয়"—সাইমন এই কথা তার এক বড়আপু থেকে শুনেছে, কাছের মানুষ। এবং মেনে সুফল ও পেয়েছে।
প্রিয় পাঠক, হয়তো উপরের লেখার পাঠোদ্ধার করতে পারছেন না, তবে আমি বলি ,
সাইমন আসলে আমাদের প্রত্যেকেরই একটা অংশ —যে অতিরিক্ত ভাবে, নিজেকে নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে, অথচ যার মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা আর গভীরতা লুকিয়ে আছে, শুধু সেই “ভাবনার নিকট বন্দী” অবস্থা থেকে বের হতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে বাস্তবতায় আসুন, দেখবেন জীবন আপনাকে কড়ায়-গন্ডায় সব বুঝিয়ে দিচ্ছে ও শিখতে বাধ্য করছে , এবং উসুল ও করছে সুদে-আসলে। তবে ভাবনার জন্য একটু সময় রাখবেন দিনের শেষভাগে, কারণ এটি আপনাকে দৈনন্দিন বাজে অভিজ্ঞতাগুলো ভুলে একটা পুলকিত বোধ হতে সাহায্য করলেও করতে পারে।
Image Credit: Freepik ©️
~১৯/০১/২০২৫
~BSMRH, MBSTU

Comments
Post a Comment